ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায়

আপনি কি একজন ছাত্র? আপনি কি ছাত্র অবস্থাতেই আয় করে নিজের খরচ নিজেই বহন করতে চান এবং স্বাবলম্বী হতে চান? তাহলে আপনার চিন্তার কোন কারণ নেই। কারণ আজকে আমাদের এই আর্টিকেলটির মূল আলোচনায় হচ্ছে ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায় সেই সম্পর্কে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যবহুল ও প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হবে। তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক!
ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায়
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলটির মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায় এ বিষয় সম্পর্কে এমন কিছু ইউনিক ও কার্যকরী তথ্য সম্পর্কে জানাবো, যেগুলিকে কাজে লাগিয়ে আপনি খুব সহজেই স্টুডেন্ট অবস্থাতেই প্রতিমাসে অনেক টাকা ইনকাম করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। আপনি কি আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গুলো জানতে চান, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনার জন্যই। ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায় এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে আশা করি আলোচ্য বিষয়ে বিস্তারিতভাবে নির্ভুল সব তথ্য গুলো জানতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ!
পেজ সূচিপত্রঃ
.

ভূমিকা

সারা বিশ্বে প্রায় অধিকাংশ মানুষই এই অনলাইন ও অফলাইন সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উপায়ে একটুখানি বুদ্ধি খাটিয়েই প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। এদিক থেকে শুধুমাত্র পেশাজীবীরাই নয় এর সাথে সাথে ছাত্ররাও এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারাও বিভিন্নভাবে ইনকাম করছে। তাই আপনি যদি ছাত্র অবস্থাতেই নিজেকে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায় এ বিষয়ে পুরোপুরি স্পষ্ট জ্ঞান রাখতে হবে।
তাই আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন, তাহলে উক্ত বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি ভালোভাবে জানতে পারবেন। এছাড়াও ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার সহজ উপায়, ছাত্র থাকা অবস্থায় টাকা আয় করার উপায় কী কী? টিউশনি করে আয়, অনলাইনে জব করে আয়, স্কিল ডেভেলপমেন্ট করে আয়, সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়ে আয়, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করার মাধ্যমে আয়, 

ট্রান্সলেট বা অনুবাদের করে আয়, গবাদি পশু পাখির খামার করে আয়, মৌসুমী ফলের ব্যবসা করে আয়, মৌসুমী ফুলের ব্যবসা করে আয়, ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করে আয়, কনটেন্ট রাইটিং করে টাকা আয়, স্টক বিজনেস করে আয়, কোম্পানির এজেন্ট হয়ে আয়, কল সেন্টারে চাকরি করে আয়, ক্যাম্পাসে খাতা কলম বিক্রয় করে আয়, ফুচকা, চটপটি, বার্গার, হালিম, ফাস্টফুড, বিক্রয় করে আয়,

বাদাম সহ অন্যান্য পণ্য বিক্রয় করে আয়, ঝাল মুড়ি বিক্রি করে আয়, টুরিস্ট গাইড হয়ে আয়, রাইড শেয়ার করে আয়, সেলুন দিয়ে আয়, বিউটি পার্লার দিয়ে আয় এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাই আপনি যদি পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায় এ বিষয় সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুবই কার্যকরী।

ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার সহজ উপায়

ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায়
সাধারণত বাইরের সকল উন্নত দেশগু লোতে ছাত্ররা সবাই ছাত্র অবস্থা থেকে নিজের খরচ নিজে চালাই। আর সেই সকল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বাস্তব সম্মত। ছাত্র জীবনে টাকা উপার্জন করায় তাদের যেমন দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, ঠিক তেমনি আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়ে, যা তাদের ক্যারিয়ার গঠনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর আমাদের দেশে মূলত ছেলে মেয়ে উভেয়ে পড়ালেখা চলাকালীন ও বাসা থেকে টাকা নেই। 
আবার কেউ কেউ পড়ালেখা শেষ করেও বাসায় বসে থাকে। মূলত আপনারা যারা ছাত্র রয়েছেন নিজের পড়ার খরচ নিজেই চালাতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কোন অংশ স্কিপ না করে, সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। সাধারণত ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। 

ছাত্র জীবনের টাকা আয় করার পদ্ধতি গুলোর মধ্যে আপনি আপনার পছন্দমতো যে কোন একটি সিলেক্ট করে কাজ শুরু করতে পারেন। এতে করে আপনি যেমন আপনার নিজের পড়ালেখার খরচ নিজেই চালাতে পারবেন, ঠিক তেমনি আপনার বাবা-মা একটু স্বস্থিবোধ করবে, তাদের কিছুটা চাপ কমবে। সাধারণত একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনকাম হচ্ছে ছাত্র জীবনের ইনকাম।

মূলত এই সময়ে একজন ছাত্র ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য পাকাপোক্ত ভীত গড়ে তোলে। সাধারণত ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার উপায় গুলো প্রত্যেক মানুষেরই খুঁজে বের করা উচিত। কেননা ছাত্র জীবনে ইনকাম করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো অবলম্বন করে খুব সহজেই একজন ছাত্র স্বাবলম্বী হতে পারে। প্রিয় পাঠক তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক ছাত্র জীবনে কি কি উপায়ে আপনারা টাকা আয় করতে পারবেন সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

ছাত্র থাকা অবস্থায় টাকা আয় করার উপায় কী কী?

ছাত্রদের টাকা আয় করার উপায় জেনে রাখা প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর একান্ত কর্তব্য। ছাত্রাবস্থায় পড়াশোনার খরচ চালানোর মতো অর্থ উপার্জন করা তেমন কঠিন কোনো বিষয় নয়। প্রিয় পাঠক তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ছাত্র থাকা অবস্থায় টাকা আয় করার উপায় গুলো কী কী?

টিউশনি করে আয়

ছাত্র জীবনে ইনকাম করার একটি জনপ্রিয় ও আদর্শ উপায় হচ্ছে টিউশানি করে আয়। প্রিয় পাঠক আপনি যদি একজন ছাত্র হয়ে থাকেন এবং আপনি যদি কোন বিষয়ের উপর খুবই ভালো দক্ষ হন পাশাপাশি আপনার যদি ছাত্রদের শেখানোর প্রতি আগ্রহ থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি টিউশন করে আয় করতে পারেন। 
মূলত টিউশনি করার জন্য আপনি আপনার আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব অথবা কোন স্কুল কলেজের ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনি যেখানে বসবাস করেন সেই এলাকায়ও আপনি কোন বিষয়ে পড়াতে চান, সেই বিষয়, আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে লিফলেট তৈরি করেও দেয়ালে টাঙাতে পারেন। ফলে টিউশনি করে যেমন আপনি খুবই ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন, ঠিক তেমনি আপনার পড়ালেখার কোন রকম ক্ষতি হবে না।

অনলাইনে জব করে আয়

সাধারণত বর্তমান সময়ে ছাত্রদের জন্য অনলাইনে অনেক ধরনের ফুলটাইম এবং পার্ট টাইম জব রয়েছে যেমন ডাটা এন্ট্রি, কন্টেন্ট রাইটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি। তবে এই জব গুলো করার জন্য অবশ্যই আপনাদের আগে সেই বিষয় গুলোতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাহলেই আপনারা এই কাজ গুলো করে খুবই ভালো পরিমাণে টাকা আর্নিং করতে পারবেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেমন ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ইত্যাদি মার্কেটপ্লেস গুলোর মাধ্যমে আপনারা অনলাইনে এই জব গুলো করতে পারবেন।

স্কিল ডেভেলপমেন্ট করে আয়

প্রিয় পাঠক আপনি যদি ছাত্র জীবনে টাকা আয় করতে চান, সেক্ষেত্রে ছাত্র জীবনে যে কোন একটি বিষয়ের উপর স্কিল ডেভেলপমেন্ট করে টাকা আয় করতে পারবেন। তবে কোন একটি বিষয়ে যদি আপনার দক্ষতা থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি খুব সহজে সে কাজটি করে সফলতা অর্জন করতে পারবেন। 

আর যদি দক্ষতা না থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি আপনার নিকটস্থ কোন স্থান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েও দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যেমন facebook, youtube, instagram এর মাধ্যমে খুব সহজেই টাকা আয় করা যায়, আপনিও ছাত্র জীবনে এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে পাশাপাশি আপনার ইচ্ছা শক্তি ও ধৈর্য মনোবল কাজে লাগিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়ে আয়

প্রিয় পাঠক আপনি কি সুন্দর ভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন? যদি আপনি সুন্দরভাবে গুছিয়ে উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে আপনি খুব সহজেই সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ এর কাজ করতে পারবেন। মূলত সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ এর কাজ করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন ইভেন্টের খোঁজ খবর নিয়ে রাখতে হবে যেমন ধরুন বাণিজ্যমেলা, বইমেলা, ফুলমেলা, ট্যুরমেলা, হস্তশিল্প মেলা প্রভূতি।
সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ এর কাজ করার জন্য প্রতিদিন আপনাকে বিভিন্ন মেলাতে গিয়ে খোঁজ খবর নিতে হবে, কোন দোকানের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ এর কাজ করার জন্য লোক লাগবে। অনেক সময় দোকানে লোক লাগে, কিন্তু পাওয়া যায় না। আপনি যখন এরকম দেখবেন তখন আপনি সেখানে নিজেই কাজ করতে পারবেন। 

অনেক মানুষ রয়েছে যারা সুন্দর ভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারে না, আপনি যদি সুন্দরভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনি সেখানে বেশি প্রায়োরিটি পাবেন। এই কাজটি করার জন্য মূলত আপনাকে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে উপস্থাপন করতে হবে, তবেই আপনি এ কাজটি করার সুযোগ পাবেন। তাহলে আপনি খুব সহজেই এই কাজটি করতে পারবেন।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করার মাধ্যমে আয়

প্রিয় পাঠক আপনি কি সুন্দরভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন? আপনার কি উচ্চারণ পরিস্কার? আপনি কি সুন্দর সাবলীল ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন? তাহলে টাকা ইনকাম করতে আপনার জন্য অনুষ্ঠান উপস্থাপন করার মাধ্যমে আয় সবচেয়ে বেস্ট হবে। সাধারণত বর্তমান সময়ে অনেক কর্তৃপক্ষ রয়েছে যারা অনুষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য একজন ভালো উপস্থাপক খুঁজেন। যেমন নানান ধরনের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ধরনের মেলা, ইভেন্ট আয়োজক এই সকল জায়গায় একজন ভালো উপস্থাপক চাই। 

মূলত তারা একটা অনুষ্ঠানকে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য একজন ভালো উপস্থাপকের নিয়োগ করে থাকেন। আপনার যদি সুন্দরভাবে গুছিয়ে উপস্থাপনা করার দক্ষতা থেকে থাকে, তাহলে আপনি খুব সহজে এই কাজটি করে টাকা আয় করতে পারবেন। এছাড়াও আপনারা চাইলে বেতারের বিভিন্ন শাখায় পার্টটাইম বা ফুল টাইম চুক্তি ভিত্তিক কাজের সুযোগ রয়েছে, আপনি সেখানে যোগাযোগ করেও কাজ করতে পারেন।

ট্রান্সলেট বা অনুবাদের করে আয়

প্রিয় পাঠক আপনি কি আপনার নিজের দেশের ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় পারদর্শী? যদি আপনি অন্য কোন ভাষায় পারদর্শী হন, সেক্ষেত্রে আপনি আপনার এই গুণটিকে কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার নিজের দেশের ভাষায় কোন বই বা কোন তথ্য, অন্য কোন বিদেশী ভাষায় রূপান্তরিত করে এখান থেকে খুবই ভালো পরিমাণে আর্নিং করতে পারবেন। 

এতে করে আপনি যেমন এখান থেকে টাকা আয় করতে পারবেন, ঠিক তেমনি আপনার নিজের দেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের অন্যান্য দরবারে পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। সাধারণত আমাদের মাতৃভাষা হচ্ছে বাংলা। কিন্তু অনেক মানুষ রয়েছে যারা বাংলা ভাষা ছাড়া তারা তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলে থাকেন। এছাড়াও অনেক আদিবাসী রয়েছে, উপজাতি রয়েছে, যারা ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলে থাকেন। 

আর এটিকে আপনারা কাজে লাগিয়ে অন্য কোনো ভাষার বই, তথ্য, লেখা ইত্যাদি নিজের মাতৃভাষায় রূপান্তরিত করেও, এখান থেকে ইনকাম করতে পারবেন। সাধারণত বর্তমান সময়ে একজন অনুবাদকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, সেটা নিজের দেশে হোক কিংবা বিদেশে। ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার একটি অনন্য মাধ্যম হচ্ছে ট্রান্সলেট বা অনুবাদ করে আয়। তাহলে আর দেরি কেন প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি এই বিশেষ গুণটি থাকে, তাহলে সেটিকে কাজে লাগিয়ে আপনারা ট্রান্সলেট বা অনুবাদ করেও খুবই ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

গবাদি পশু পাখির খামার করে আয়

প্রিয় পাঠক আপনি কি একজন স্টুডেন্ট? আপনি কি স্টুডেন্ট অবস্থায় টকা আয় করতে চান, তাহলে আপনি বিভিন্ন ধরনের খামার করে একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে প্রতি মাসে খুবই ভালো পরিমাণে টাকা আর্নিং করতে পারবেন। এজন্য আপনার প্রয়োজন কৃষি বিষয়ক বা খামার বিষয়ক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে। আর আপনাকে সেই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। 
তাহলে আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন। সাধারণত খামারের কাজ করার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করতে হবে। আপনার নির্বাচন করা জায়গায় বিভিন্ন ধরনের খামার করতে পারেন। সাধারণত বর্তমান সময়ে যে সকল খামার গুলো জনপ্রিয় সেগুলো হলো ছাগল পালন, গরু পালন, মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, 

লেয়ার মুরগি পালন, বিভিন্ন ধরনের পাখি পালন, ব্রয়লার মুরগি পালন, ডিম উৎপাদন ইত্যাদি। উল্লেখিত এই ধরনের দেশি-বিদেশি প্রজাতির সবকিছু পালন করে আপনি প্রতি মাসে খুবই ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন পাশাপাশি আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন এবং অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।

মৌসুমী ফলের ব্যবসা করে আয়

সাধারণত ছাত্র জীবনে টাকায় করাটা আহামরি কোনো কঠিন কাজ না। তবে সকল মানুষ ছোট থেকে বড় হয়। তাই কোন কাজকেই ছোট মনে করা যাবে না। একদিন আপনিও এই ছোট কাজকে অনেক বড় ব্যবসায় রূপান্তরিত করতে পারবেন। প্রিয় পাঠক আপনি কি মৌসুমী ফলের ব্যবসা করতে চাচ্ছেন? আপনার কোন দোকান নাই? টাকা নাই? চিন্তার কোন দরকার নাই। ধরুন যে আপনার বাড়িতে বিভিন্ন মৌসুমী ফলের গাছ রয়েছে যেমন আম, লিচু, কলা,পেঁপে, জামরুল, তরমুজ আনারস ইত্যাদি ফলগুলো বাড়িতে খেয়ে আপনারা শেষ করতে পারেন না। 

আপনারা সেই ফল গুলো চাইলে আপনার নিকটস্থ বাজারে বা হাটে বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়াও যদি বাজারে নিয়ে যেতে না চান, সেক্ষেত্রে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন ব্যবহার করে ফেসবুকে শেয়ার করে অর্ডার নিতে পারেন। এরপর যারা যারা অর্ডার করবে তাদের নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার নিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে মৌসুমী ফল তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারেন। ফোনের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারবেন।

মৌসুমী ফুলের ব্যবসা করে আয়

সাধারণত ফুল সকল মানুষই পছন্দ করে। ফুল সকল মানুষ পছন্দ করলেও, সবাই কিন্তু চাষ করতে পারে না। সাধারণত সুন্দর সুন্দর ফুল গুলো বেশিরভাগ শীতকালেই পাওয়া যায়। আবার জায়গা ভেদে এটা তারতম্য হতে পারে। প্রিয় পাঠক আপনি আপনার পড়ালেখার পাশাপাশি ফুলের ব্যবসা করেও টাকা ইনকাম করতে পারেন। সারা বছরই কোন না কোন অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। আর অনুষ্ঠান মানেই হচ্ছে নানান ধরনের ফুলের চাহিদা। 

সারা বছরে কম বেশি বিভিন্ন ধরনের ফুল পাওয়া যায়, একেক ফুল একেক সময় বেশি জন্মায়। আপনি এই সুবর্ণ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ফুল চাষীদের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে ফুল সংগ্রহ করে বিভিন্ন ইভেন্টের চাহিদা অনুযায়ী ফুলের সাপ্লাই প্রদান করতে পারেন। এতে করে আপনি এখান থেকে ভালো পরিমানে আর্নিং করতে পারবেন।

ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করে আয়

প্রিয় পাঠক আপনি যদি আপনার পড়ালেখার পাশাপাশি টাকা আয় করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনি ফ্লেক্সিলোডের দোকান দিয়ে টাকা আয় করতে পারেন। সাধারণত বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মানুষ অনেক সৌখিন, তারা একবেলা ভাত খেতে না পেলেও সমস্যা নেই। কিন্তু মোবাইলে টাকা না থাকলে চলবে না। বর্তমান সময়ে প্রত্যেক জায়গায় ফ্লেক্সিলোডের দোকান গড়ে উঠেছে। 
মূলত ফ্লেক্সিলোডের দোকান দেওয়ার জন্য কোন নির্দিষ্ট স্থান না থাকলেও, আপনারা দাঁড়িয়ে থেকেও এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন, আর এর বিনিময়ে আপনাকে কোম্পানিগুলো একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন প্রদান করবেন। এই কাজটি মূলত আপনাকে অনলাইন এর মাধ্যমে করতে হবে। তারা আপনাকে অনলাইনের মাধ্যমে পেমেন্ট দেবে। বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ ফ্লেক্সিলোডের দোকান দিয়ে খুবই ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করছেন। তাই আর দেরি কেন আপনি ফ্লেক্সিলোডের দোকান দিয়ে টাকা ইনকাম শুরু করে দিন।

কনটেন্ট রাইটিং করে টাকা আয়

আপনি কি লেখালেখি করতে অনেক ভালোবাসেন, তাহলে আপনি অনলাইন কিংবা অফলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন টপিক নিয়ে লিখতে পারেন। অফলাইনে লিখতে পারেন যেমন বিভিন্ন পেপার, পত্রিকায়। আর যদি মনে করেন অনলাইনে লিখবেন তবে আপনাকে একটি আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করে সেখানে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। 

আর আপনি যে লেখাগুলো লিখে আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবেন সেগুলো সারা বিশ্বের মানুষ পড়বে, সেখান থেকে উপকৃত হবে। সাধারণত বর্তমান সময়ে প্রচুর মানুষ কনটেন্ট রাইটিং করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। প্রিয় পাঠক আপনি যদি একজন ভালো কনটেন্ট রাইটার হতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে একজন দক্ষ প্রশিক্ষকের কাছ থেকে কন্টেন রাইটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

তাহলে আপনি আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট খুলে সেখানে নিয়মিত লেখালেখির মাধ্যমে সেখান থেকে ভালো পরিমাণের টাকা আর্নিং করতে পারবেন। আর আপনি যখন একসময় লিখতে লিখতে দক্ষ হয়ে উঠবেন, তখন প্রতিনিয়ত আপনার আয় বৃদ্ধি পাবে। আর একবার যদি আপনার ওয়েবসাইটে আয় শুরু হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আপনাকে আর কখনোই পিছনে ঘুরে তাকাতে হবে না।

স্টক বিজনেস করে আয়

সাধারণত ছাত্র জীবনে বন্ধুদের একে অপরের সাথে ভালো সুসম্পর্ক থাকে। এটাকে আপনারা কাজে লাগিয়ে কয়েকজন বন্ধু মিলে স্টক বিজনেসের কাজ করতে পারেন। যেমন পেঁয়াজ, আলু, ধান, গম, ইত্যাদি স্টক করে পরবর্তী সময়ে ভালো দামে বিক্রয় করতে পারবেন। স্টকের বিজনেস করে বর্তমান সময়ে মানুষ প্রচুর টাকা ইনকাম করছেন। তাই আর দেরি না করে আপনারাও স্টক বিজনেস শুরু করে টাকা আয় করুন নিজে নিজে স্বাবলম্বী হন।

কোম্পানির এজেন্ট হয়ে আয়

বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি রয়েছে যারা তাদের কোম্পানি ও ব্র্যান্ডের প্রচার-প্রচারণার জন্য এজেন্ট খুজে থাকেন। ছাত্র জীবনে কোনরকম ইনভেস্ট ছাড়া আপনারা যদি আয় করতে চান, তাহলে আপনাদের জন্য এই কাজটি সবচেয়ে বেস্ট হবে, আপনারা এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করতে পারেন। কিভাবে কাজ করতে হবে মূলত তারাই আপনাকে ভালোভাবে ট্রেনিং দিয়ে সবকিছু ভালোভাবে বুঝিয়ে দেবে। 
এই কাজটি করার জন্য আপনার মন মানসিকতা প্রফুল্ল থাকা লাগবে পাশাপাশি সকল পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে স্মার্টলি কাজ করতে হবে। এভাবে আপনি যদি বড় বড় কিছু কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনি আপনার নিজের পড়ালেখার খরচ পাশাপাশি আপনার আরো অন্যান্য খরচ আপনি নিজেই বহন করতে পারবেন। সাধারণত আগে মানুষ এই কোম্পানি গুলোতে পার্টটাইম জব করতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই কোম্পানি গুলোতে ফুল টাইম কর্মী হিসেবে জব পাওয়া যায়।

কল সেন্টারে চাকরি করে আয়

সাধারণত বর্তমান সময়ে কল সেন্টার গুলোতে প্রচুর কাজের অফার দেখা যায়। আপনি যদি শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করে সুন্দরভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন, কাস্টমারদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনি বিভিন্ন কোম্পানির কল সেন্টারে পার্ট-টাইম চাকরি করতে পারেন। আপনারা যদি তাদের দিকনির্দেশনা মেনে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেন, 

সেক্ষেত্রে কল সেন্টারে চাকরি করে এখান থেকে খুবই ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অনেক স্টুডেন্ট রয়েছে যারা নিজের খরচ পাশাপাশি পড়ার খরচ চালানোর জন্য কল সেন্টারে চাকরি করে থাকেন। আর এখান থেকে ভালো পরিমাণে ইনকাম করেন। প্রিয় পাঠক আপনিও চাইলে কল সেন্টারে চাকরি করে টাকা আয় করতে পারেন। এটি স্টুডেন্টদের ইনকামের একটি দারুন মাধ্যম।

ক্যাম্পাসে খাতা কলম বিক্রয় করে আয়

প্রিয় পাঠক আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি আপনার পড়ালেখার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ভেতরে খাতা,কলম বিক্রয় করে টাকা ইনকাম করতে পারেন। কেননা ক্যাম্পাস মূলত হচ্ছে ছাত্রদের-ছাত্রীদের আস্তানা সেখানে মূলত ছাত্র-ছাত্রী থাকে আপনি যদি সেখানে খাতা, কলম সহ আরো প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস বিক্রি করেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে অবশ্যই কিনবে। 

আপনি যদি আপনার ক্লাসে জানাতে পারেন যে আপনার কাছে এই এই পণ্য গুলো রয়েছে, তাহলে তারা কষ্ট করে দোকানে না গিয়ে আপনার কাছ থেকেই পণ্য কিনবে। আপনি সেই পণ্য গুলো স্বল্প মূল্যে পাইকারি দামে কিনে খুচরা মূল্যে বিক্রয় করলে সেখান থেকে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন।

ফুচকা, চটপটি, বার্গার, হালিম, ফাস্টফুড, বিক্রয় করে আয়

সাধারণত বর্তমান সময়ে শহরের অলিগলি গুলোতে, বিভিন্ন জায়গায়, মোড়ে মোড়ে, রাস্তার ধারে,দোকান দিয়ে বা ট্রলিতে করে বার্গার, চটপটি, ফুচকা, হালিম, শিক, ফাস্টফুড, ইত্যাদির দোকান বিদ্যমান রয়েছে। কেননা বর্তমান সময়ে এই খাবার গুলো প্রায় সকল মানুষেরই পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এই খাবার গুলোর যারা ব্যবসা করে, তাদের এই খাবার গুলো বিক্রি করে প্রচুর টাকা লাভ হয়।
প্রিয় পাঠক আপনারা যদি কয়েকজন বন্ধু মিলে এই খাবার গুলোর দোকান কোন মোড়ে বা রাস্তার ধারে কিংবা কোন ট্রলিতে দিতে পারেন, তাহলে অনেক মানুষ আপনাদের কাছে থেকে এই খাবার গুলো খাবে। একবার আপনার খাবারের দোকান পরিচিতি পেলে মানুষ দূর দূরান্ত থেকে খেতে আসবে, কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে আসবে, কেউ মা-বাবাকে নিয়ে আসবে, কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আসবে, আবার কেউবা ভাই-বোন নিয়ে আসবে, আপনার দোকানে। 

সব সময় চেষ্টা করবেন কাস্টমারদের অল্প পুজিতে কম পরিসরে হলেও ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাহলে ধীরে ধীরে দেখবেন আপনার দোকানে কাস্টমারের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে। আপনার দোকানের গুণগত মান যদি ভাল হয়, তাহলে মানুষ আপনার দোকানে খেতে পছন্দ করবে। আর এর বিনিময়ে আপনি সেখান থেকে খুবই ভালো পরিমানে টাকা আর্নিং করতে পারবেন।

বাদাম সহ অন্যান্য পণ্য বিক্রয় করে আয়

বর্তমান সময়ে মুখরোচক খাবার গুলো খেতে প্রায় সকল মানুষই পছন্দ করেন। যেমন বাদাম, ঝালমুড়ি, মটর, বুট, ছোলা ইত্যাদি। এই খাবার গুলো বিক্রি করে আপনারা ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আর এই খাবার গুলোর ব্যবসা আপনারা অল্প পুজিতে শুরু করতে পারবেন। এছাড়াও আপনারা চাইলে শসা, পেয়ারা, এগুলো বিক্রি করতে পারেন। কেননা বর্তমান সময়ে এই খাবার গুলোর বেশ চাহিদা রয়েছে।

ঝাল মুড়ি বিক্রি করে আয়

প্রিয় পাঠক আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি আপনার পড়াশোনার পাশাপাশি ঝালমুড়ির ব্যবসা করেও টাকাই করতে পারবেন। সারাদিন ক্লাস করার পাশাপাশি আপনারা চাইলে টাকা ইনকাম করার জন্য বিকালের অল্প কিছু সময় বরাদ্দ করতে পারেন। কেননা বিকেলবেলা মানুষ যেখানে সেখানে ঘুরতে বের হয়, আর সেই জায়গা গুলোতে খাবার খেতে খুবই পছন্দ করে যেমন সেরকমই একটি খাবার হচ্ছে ঝাল মুড়ি। সাধারণত ঝালমুড়ি বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দারুন মজার করে বানানো হয়। একেকজন ঝালমুড়ি একেক রকম করে বানায়। 
তাইতো একেকজনের ঝালমুড়ি স্বাদ একেক রকম হয়। আপনি যদি মজার মজার ঝাল মুড়ি বানাতে পারেন, তাহলে মানুষজন আপনার দোকানে বেশি ভিড় করবে, দূরদূরান্ত থেকে আপনার ঝাল মুড়ি খেতে আসবে। আপনারা এই ঝাল মুড়ির ব্যবসাটা অল্প পুজিতে শুরু করতে পারবেন, আর এখান থেকে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ঝালমুড়ির এই ব্যবসা করে আপনারা অনায়াসে নিজের পড়ালেখা পাশাপাশি নিজের আরও অন্যান্য খরচ খুব সহজে চালাতে পারবেন।

টুরিস্ট গাইড হয়ে আয়

সাধারণত আমাদের দেশে টুরিস্ট গাইডের বেশ ভালোই অভাব রয়েছে। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের শিক্ষার হার বেশি হওয়ার সত্বেও বিদেশি লোকজন বা ভিনদেশী লোকজন খুবই কম ভ্রমণ করতে আসে। আর যে সকল লোকজন বিদেশি বা ভিনদেশী ভাষা জানে তারা দেশে অবস্থান করে না, তারা বেশি টাকা ইনকামের আশায় বিদেশে পাড়ি জমায়। আমাদের সকলকে এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, তাহলে আমাদের দেশ উন্নত হবে পাশাপাশি আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। 

প্রিয় পাঠক আপনি যদি ছাত্র জীবনে নিজের পড়াশোনা পাশাপাশি অন্যান্য খরচ চালাতে চাইলে ভিনদেশী বা বিদেশি যে কোন ভাষা আয়ত্ত করুন। আপনাকে কোন ক্লায়েন্ট খুঁজে নিতে হবে না, বরং ক্লায়েন্ট আপনাকে খুঁজে নেবে। এছাড়াও আমাদের দেশে যে সকল দর্শনীয় দর্শনীয় স্থান গুলো রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে আপনার ভালো মতো ধারণা রাখতে হবে। 

মূলত একজন টুরিস্ট গাইডের মূল কাজই হচ্ছে সকল বিষয়ে একজন বিদেশীকে গাইড করা। কেননা তারা বাইরের দেশ থেকে আসে, আমাদের দেশ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই, সব কিছুই অজানা, আর এই অজানা বিষয় গুলো মূলত তারা আপনার কাছ থেকেই জানবে। তাই জন্য আপনি যে সকল তথ্য গুলো তাকে দেবেন, সব তথ্য সঠিক দেওয়ার ব্যাপারে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাইড শেয়ার করে আয়

প্রিয় পাঠক আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট হন পাশাপাশি আপনি যদি শহরাঞ্চলে অবস্থান করেন এবং আপনি যদি নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য খরচ বহন করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনি ছাত্র জীবনে আয় করার জন্য রাইড শেয়ারকে বেছে নিতে পারেন। রাইড শেয়ার করার জন্য আপনার প্রথমে একটি নিজস্ব মোটরসাইকেলের প্রয়োজন হবে। সাধারণত রাইড শেয়ারিং শহর অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ঢাকায় রাইড শেয়ার দারুণ জনপ্রিয়। কেননা ঢাকায় প্রচন্ড পরিমাণে যানজট এর সমস্যা হয়, ফলে শহরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। 
 বর্তমান সময়ে যানজট পেছনে ফেলে চলার জন্য রাইড শেয়ারিং হচ্ছে একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। প্রিয় পাঠক আপনি যদি ট্রাফিকের সকল নিয়ম-কানুন ভালোভাবে জেনে ট্রাফিকের সকল নিয়ম-কানুন মানেন এবং আপনার যদি মোটরসাইকেলের একটি লাইসেন্স থাকে, তবে আপনি খুব সহজে রাইড শেয়ার করে প্রতিদিন খুবই ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে ঢাকায় রাইড শেয়ার করা যতো গুলো স্টুডেন্ট অবস্থান করছে প্রায় বেশিরভাগ রাইড শেয়ারকারী হচ্ছে স্টুডেন্ট।

সেলুন দিয়ে আয়

সাধারণত বর্তমান সময়ে স্টুডেন্ট লাইফে টাকা ইনকাম করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি দারুন পদ্ধতি হচ্ছে সেলুন খুলে আয়। সেলুন এমন একটি জিনিস যেটা গ্রামাঞ্চলে বা শহর অঞ্চলে সব জায়গাতেই প্রয়োজন লাগে। গ্রামাঞ্চলে শহরাঞ্চলে সব জায়গায় সেলুনের দোকান রয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি আপনারা যদি কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব মিলে কিছু অল্প পরিমাণ টাকা ইনভেস্ট করে একটি সেলুন খুলতে পারেন, তাহলে এখান থেকে আপনাদের খুবই ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম হবে। যা আপনাদের পড়াশোনা পাশাপাশি অন্যান্য খরচ বহন করতে সহজ হবে। 

সেলুনের ব্যবসাটি এমন একটি ব্যবসা যেটি আপনি সারা বছরই করতে পারবেন। আপনি চাইলে ভ্রাম্যমান করেও দোকানটি করতে পারেন। যখন যেখানে প্রয়োজন আপনি কাজ সেরে, আবার সকল জিনিস গুছিয়ে নিতে পারেন। সাধারণত বর্তমান সময়ে সেলুনে যে শুধু চুল কাটে তেমনটা নই, সেভ করানো হয়, চুলের জন্য বিভিন্ন হেয়ার স্টাইল, মুখ মাসাজ, মাথা মাসাজ পাশাপাশি পুরা শরীরও মাসাজ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও গ্রাহক যদি চাই চুলে দাড়িতে বিভিন্ন ধরনের কালার করতে চাইলেও তারা এই সেবা প্রদান করে থাকেন।

বিউটি পার্লার দিয়ে আয়

বিউটি পার্লার দিয়ে আয়
সাধারণত বর্তমান সময়ে মানুষ হচ্ছে সুন্দরের পূজারী। বর্তমানে জেন্স বা লেডিস উভয় ধরনের পার্লার দেখা যায়। মূলত আগে শুধুমাত্র শহরাঞ্চলে পার্লারের চাহিদা ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে গ্রামাঞ্চল শহরাঞ্চল দুই জায়গাতেই পার্লারের অনেক চাহিদা রয়েছে। যারা গ্রাম থেকে শহরে পড়ালেখা করতে আসে বিশেষ করে মহিলারা পার্লারে খন্ডকালীন বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন। 
তারা খুবই ভালোভাবে পার্লারের কাজে দক্ষ হয়ে নিজেই পার্লার খুলে থাকেন। আপনিও পার্লারের কাজ ভালোভাবে শিখে দক্ষ হয়ে আরো অন্যান্য ছাত্র ছাত্রীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। বর্তমান সময়ে আয় করার একটি দারুন মাধ্যম হচ্ছে পার্লারের ব্যবসা করে আয়। এই সুযোগটিকে আপনিও কাজে লাগিয়ে নিজে যেমন স্বাবলম্বী করতে পারবেন, ঠিক তেমনি এই পেশায় আরো অন্যদেরকেও এই পেশার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করতে পারবেন।

লেখকের ইতি কথাঃ ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায়

সম্মানিত পাঠক, আশা করি উপরোক্ত আলোচনা গুলো থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায় এ বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি বিস্তারিত ভাবে জানতে পেরেছেন। বর্তমান সময়ে অনলাইন ও অফলাইন সুবিধা থাকার কারণে এটিকে কাজে লাগিয়ে ছাত্র অবস্থাতেও পার্টটাইম যে কোন ধরনের কাজ করে প্রতি মাসে অনেক টাকা ইনকাম করা সম্ভব। তবে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার পুরোপুরি জ্ঞান বা স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। তবে আপনি প্রতি মাসে অনেক টাকা ইনকাম করতে সক্ষম হবেন। 

তাই ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায় এই আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে উল্লেখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিলে আপনি ছাত্র অবস্থাতেই খুব সহজেই প্রতি মাসে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তাই আপনি যদি অফলাইন ও অনলাইনের এই সুবিধা কে কাজে লাগিয়ে প্রতি মাসে অনেক টাকা ইনকাম করতে চান সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায় এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। তাহলে আপনি খুব দ্রুতই উক্ত মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে স্টুডেন্ট অবস্থাতেও একটা হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট আয় করতে সক্ষম হবেন।

সম্মানিত পাঠক, এতক্ষণ আমাদের সাথে থেকে এই আর্টিকেলটির সম্পূর্ণ মনোযোগের সাথে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে এ ধরনের তথ্যবহুল কার্যকরী ও উপকারী আর্টিকেল নিয়মিত পোস্ট করে থাকি। তাই আপনি যদি এ ধরনের আরও তথ্যবহুল ও উপকারী সব আর্টিকেল পড়তে চান, তাহলে অবশ্যই আমাদের এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ফলো করুন। সাথে সাথে এই আর্টিকেলটি পড়ে ভালো লাগলে আপনার নিকট আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজনদের কাছে তাদের উপকারার্থে শেয়ার করে দিন। 

যেন তারা ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায় এ বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি ভালোভাবে জেনে নিতে পারে। ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার ২২টি কার্যকরী ও সহজ উপায় এ বিষয় সম্পর্কে আপনার যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ মতামত বা প্রশ্ন থাকে, তাহলে অবশ্যই নিচে দেওয়া মতামত বক্সে কমেন্ট করতে ভুলবেন না। আবার আপনাদের সাথে কথা হবে নতুন কোন আর্টিকেল নিয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ ও সুস্থ থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

কনফিডেন্স আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url