বেল খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও অপকারিতা ৮টি
আপনি কি এমন একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ ফলের সন্ধান করছেন? যেটা দেখতে খুবই মনোমুগ্ধকর
আবার খেতেও অনেক সুস্বাদু! আবার বিভিন্ন ধরনের খাদ্য শক্তি ও পুষ্টিগুণ প্রচুর
পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছে। আপনার কি জানতে হচ্ছে কি সেই পুষ্টিকর ফল? তাহলে আপনার
চিন্তার আর কোন কারণ নেই। কারণ আজকে আমাদের এই আর্টিকেলটির মূল আলোচনায় হচ্ছে বেল
খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও অপকারিতা ৮টি সেই সম্পর্কে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যবহুল
ও কার্যকরী আলোচনা করা হবে। তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক!
আমরা অনেকেই হয়তো বেল খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও অপকারিতা ৮টি সম্পর্কে না জানার
কারণে বেল খাওয়া থেকে বিরত থাকি। আর এই জন্যই বেলে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলো
আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে না ফলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে
যায়। ফলে নানা ধরনের রোগ আক্রমণ করে। তাই আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলটির
মাধ্যমে বেল খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও অপকারিতা ৮টি এ বিষয় সম্পর্কে এমন কিছু
ইউনিক ও কার্যকরী তথ্য সম্পর্কে জানাবো, যেগুলিকে কাজে লাগিয়ে আপনি খুব সহজেই
আপনার শরীরকে সুস্থ ও ফিট রাখতে পারবেন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে
পারবেন। সাথে সাথে আপনার চেহারা হবে উজ্জ্বল, চোখের দৃষ্টিশক্তি হবে তীক্ষ্ণ, পেট
থাকবে পরিষ্কার এবং আরও বিভিন্ন ধরনের উপকার পাবেন। আপনি কি বেল খাওয়ার উপকারিতা
২০টি ও অপকারিতা ৮টি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গুলো জানতে চান, তাহলে আজকের
এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনার জন্যই। এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে
পড়ুন। তাহলে আশা করি আলোচ্য বিষয়ে বিস্তারিতভাবে নির্ভুল সব তথ্য গুলো জানতে
পারবেন। ইনশাআল্লাহ!
পেজ সূচিপত্রঃ
.
ভুমিকা
পুষ্টিকর ফল গুলোর মধ্যে বেল হলো মহান আল্লাহ তায়ালার এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। কারণ
বেলে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন পুষ্টি উপাদান ও অনেক ধরনের গুনাগুন বিদ্যমান রয়েছে।
এই পৃথিবীতে অনেক ধরনের গুনাগুন সমৃদ্ধ ফল রয়েছে তার মধ্যে বেল অন্যতম যা শরীরকে
ফিট ও সজীব রাখতে সব থেকে বেশি ভূমিকা পালন করে। সাথে সাথে চেহারার কালো ভাব দূর
করে উজ্জ্বল করে তোলে, দৃষ্টিশক্তিকে অনেক তীক্ষ্ণ করে তোলে, পেটকে বিভিন্ন
রোগবালাই থেকে মুক্ত করে এবং রক্ত পরিষ্কার করে।
এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালো রাখতে সহায়তা করে। তাই আজকের এই
আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনি বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন বেল
খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও অপকারিতা ৮টি এই সম্পর্কে। এছাড়াও বেল খাওয়ার উপকারিতা
ও অপকারিতা, বেল খাওয়ার উপকারিতা, বেল খাওয়ার অপকারিতা, বেলের পুষ্টিগুণ
উপাদান,
বেল খাওয়ার সঠিক সময় - বেল কখন খাওয়া উচিত? পাকা বেল খাওয়ার উপকারিতা, কাঁচা
বেলের কি কি উপকারিতা রয়েছে? খালি পেটে বেল খাওয়ার উপকারিতা কী কী? এ বিষয়গুলো
সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাই আপনি যদি বেল খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও
অপকারিতা ৮টি এ বিষয় সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য
খুবই কার্যকরী।
বেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
সাধারণত খুবই কমন এবং সহজলভ্য একটি ফল হচ্ছে বেল। মূলত বেল মানুষের পছন্দের একটি
খাবার হলেও বেলের কিছু বিশেষ উপকার এবং অপকার রয়েছে সেই সম্পর্কে অনেক মানুষই
জানেন না। বেলের পরিপূর্ণ পুষ্টি শরীরে সাধন করতে চাইলে অবশ্যই প্রত্যেক মানুষেরই
বেলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী। কেননা বেল হচ্ছে খুবই
পুষ্টিগুনে ভরপুর একটি খাবার, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
আবার অতিরিক্ত পরিমাণে বেল খেলে শরীরের নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এজন্য
প্রত্যেক মানুষেরই বেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানা উচিত। তাহলে
বেলের সম্পূর্ণ পুষ্টি যেমন শরীরে পাবে, ঠিক তেমনি অতিরিক্ত পরিমাণে বেল খাওয়ার
অপকারিতা সম্পর্কেও জানতে পারবে। প্রিয় পাঠক তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক আপনাদের
সুবিধার্থে বেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা
করা হলো।
বেল খাওয়ার উপকারিতা
সাধারণত বেল খুবই পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার, এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত
উপকারী। কাঁচা এবং পাকা দুই রকম অবস্থাতেই বেল স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।
কেননা বেলে নানা ধরনের পুষ্টি গুণাগুণ বিদ্যমান রয়েছে যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন
এ,পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ইত্যাদি। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান
রয়েছে পানি, প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, শর্করা, ক্যারোটিন, থায়ামিন, রিবোফ্লাবীন,
এসকরবিক এসিড, নিয়াসিন, টারটারিক এসিড ইত্যাদি।
আর এজন্যই বেলকে পুষ্টির দারুণ উৎস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সাধারণত আমরা
শুধুমাত্র বেল শরবত হিসাবে খাই, তবে অনেক পুষ্টিবিদরা বলেন, বেল নিয়মিত খেলে
শরীরে নানা ধরনের ছোট বড় রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কেননা বেলে রয়েছে বহু
উপকারিতা। সাধারণত গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরমের দাবদাহে বেলের শরবত যেন শরীরকে শীতল
করে দেয়।
মূলত গরমকালে শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য বেলের শরবতের জুড়ি মেলা ভার। বেল যে
শুধুমাত্র পেট পরিষ্কার করে বা পেট ঠান্ডা রাখে তা কিন্তু নয়, বরং বেলে বিদ্যমান
রয়েছে আরও নানা ধরনের স্বাস্থ্য গুনাগুন। প্রিয় পাঠক তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক
বেলের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।
- শরীরকে সতেজ রাখেঃ সাধারণত শরীরে এনার্জি বা শক্তি বৃদ্ধিতে বেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও বেলে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন বিদ্যমান রয়েছে, যা দেহে এনার্জি বা শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। প্রোটিন ছাড়াও প্রতি ১০০ গ্রাম বেলে বিদ্যমান রয়েছে ১৪০ গ্রাম ক্যালরি, যা শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। দেহকে সচল রাখতে পাশাপাশি পেশিকে মজবুত করতে বেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রীষ্মকালে দাবদাহের সময় শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর করতে এবং শরীরকে শীতল ও সতেজ করার জন্য বেলের শরবতের জুড়ে মেলা ভার। গরমকালে যখন আপনাদের শরীরে ক্লান্তি অনুভূত হবে তখন আপনারা এক গ্লাস বেলের শরবত খেয়ে নেবেন, দেখবেন নিমিষেই আপনাদের দেহে এনার্জি ফিরে এসেছে।
- হজম শক্তি বৃদ্ধি করেঃ সাধারণত গরমকালে প্রায় ম্যাক্সিমাম মানুষের গ্যাস্ট্রিক, পেট ব্যথা, বদহজম ইত্যাদি সমস্যা গুলো প্রায় লেগে থাকে। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনারা বেলের শরবত খেতে পারেন। আপনারা যদি প্রতিদিন নিয়মিত বেলের শরবত খান, সেক্ষেত্রে শরীরে মিলবে নানা উপকারিতা খাবার দ্রুত হজমে সহায়তা করবে পাশাপাশি আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও বেলের শরবত পেট ঠান্ডা রাখতে ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ আপনারা যদি নিয়মিত বেল খান, সেক্ষেত্রে আপনাদের শরীরে বেল রক্ত পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করবে পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালন যেন স্বাভাবিক থাকে সেদিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বেল খাওয়ার পরে শরীরে যে টক্সিন গুলো অবস্থান করে সেগুলো দূর করতে সহায়তা করবে। এছাড়াও বেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি বিদ্যমান রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সাধারণত গ্রীষ্মকাল আসলে নানা ধরনের ছোঁয়াচে রোগের দেখা মেলে, এই রোগগুলোর সাথে মোকাবেলা করতে বেলের ভূমিকা অনন্য।
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ আপনারা যারা কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যায় ভুগছেন আপনাদের জন্য পাকা বেলের শরবত হতে পারে একটি আদর্শ খাবার। যেহেতু খাবার দ্রুত হজমে বেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেহেতু কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাগুলো শরীরে বাসা বাঁধতে পারে না। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রয়েছে আপনারা যদি নিয়মিত ২-৩ মাস বেলের শরবত খান, তাহলে আপনাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা চিরতরে দূর হয়ে যাবে। এছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পেটে যে ব্যথা হয়, সেটাও দূর হয়ে যাবে। এছাড়াও কাঁচা বেল ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগ উপশম করতে দারুন সহায়ক।
- চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করেঃ বেল শরীরে যেমন নানা ধরনের উপকারিতা সাধন করে, ঠিক তেমনি চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কেননা বেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ বিদ্যমান রয়েছে, যা চোখের দৃষ্টি শক্তি উন্নত করতে দারুন সহায়ক। এছাড়াও বেল চোখের বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন জেরসিস, গ্লুকমা ইত্যাদি রোগ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং চোখের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি যোগায়। যাদের চোখে ছানি পড়ার সমস্যা রয়েছে, তারা মধু ও বেল পাতার রস একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে খেলে চোখের ছানির সমস্যা দূর হবে। যারা নিয়মিত বেল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে তাদের চোখের বিভিন্ন ধরনের অসুখ হওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যায়।
- কিডনি সুস্থ রাখেঃ কিডনি ভালো রাখতে বেল অত্যন্ত উপকারী একটি উপাদান। কেননা বেলে বিদ্যমান রয়েছে এমন কিছু উপকারী উপাদান, যা কিডনিকে ডিটক্সিফাই করতে দারুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে কিডনির নানা ধরনের অসুখ বিসুখ থেকে কিডনিকে রক্ষা করে। এজন্যই ডাক্তাররা কিডনির সমস্যার রোগীদের নিয়মিত বেল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
- গ্যাস্ট্রিক ও আলসার প্রতিরোধ করেঃ সাধারণত বেলে প্রচুর পরিমাণে আশঁ বিদ্যমান রয়েছে। বেল যেহেতু হজম শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেহেতু পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার কোন চান্স নেই। এজন্য নিয়মিত বেল খেলে আলসার, গ্যাস্ট্রিক, পেট ব্যথা জাতীয় সকল সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
- ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ বেলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। এর মধ্যে রয়েছে যেমন কোলন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার ইত্যাদি। এছাড়াও বেলে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন বিদ্যমান রয়েছে, যা মানুষের দেহে টিউমার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। বিশেষ করে নারীদের নিয়মিত বেল বা বেলের শরবত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, তাহলে এর মাধ্যমে জরায়ু ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।
- ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায়ঃ সাধারণত বেলে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য আশঁ বিদ্যমান রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত বেল খাওয়ার ফলে ত্বক থাকে মসৃণ উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়ী। এছাড়াও ব্রেনের নানা ধরনের সমস্যা দূর করতে বেল ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
- ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করেঃ সাধারণত বেলে ঠান্ডা জাতীয় সমস্যা প্রতিরোধী উপাদান প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছে, যার ফলে সর্দি জ্বর হলে বেল অথবা বেল পাতার রস খেলে খুবই দ্রুত সর্দি জ্বর কেটে যাবে।
- ডায়াবেটিসের সমস্যা দূর করেঃ সাধারণত বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষই ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন। যেসব ব্যক্তিবর্গের ডায়াবেটিস রয়েছে আপনারা নিয়মিত পাকা বেলের শরবত খেতে পারেন। এতে করে আপনাদের শরীরে অনেক উপকারিতা মিলবে। কেননা পাকা বেলের শরবতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান রয়েছে, যা ডায়াবেটিসের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিসের হাত থেকে রক্ষা পেতে আপনারা নিয়মিত মিষ্টি ছাড়া বেলের শরবত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- বীর্যের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করেঃ প্রিয় পাঠক আপনাদের যাদের বীর্যের ঘনত্ব অনেক কম আপনারা নিয়মিত পাকা বেলের শরবত খেতে পারেন। এতে করে আপনাদের বীর্যের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে। মূলত আপনারা দুই নিয়মে পাকা বেল খেতে পারেন যেমন প্রথমটি হচ্ছে এক গ্লাস গরুর দুধ, পাকা বেল এবং ২ চামচ মধু একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে শরবত তৈরি করে খেতে হবে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে এক গ্লাস পানি পাকা বেল তিন চামচ ইসবগুলের ভুষি ভালোভাবে মিশিয়ে শরবত তৈরি করে খেতে হবে। টানা এক সপ্তাহ খেলে নিজেই উপকার বুঝতে পারবে। স্থায়ী উপকারিতা পেতে চাইলে এই দুটো শরবতের মধ্যে যেকোনো একটি টানা ২-৩ তিন মাস খাবেন এতে করে আপনার বীর্যের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে।
- জন্ডিস কমাতে সহায়তা করেঃ যারা জন্ডিসের সমস্যায় ভুগছেন আপনারা বেলের শরবত খেতে পারেন, এতে করে আপনাদের অনেক স্বস্তি বোধ হবে পাশাপাশি জন্ডিস কমবে। এছাড়াও বেলে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি গুনাগুন বিদ্যমান রয়েছে, যা জন্ডিস দারুন সহায়ক।
- আর্থ্রাইটিস সমস্যা কমাতে সহায়তা করেঃ সাধারণত শরীরে কোন ধরনের ব্যথাকে আর্থ্রাইটিস এর সমস্যা বলা হয়ে থাকে। অনেক সময় আমাদের শরীরে নানা ধরনের ব্যথা দেখা দেয় যেমন হাতে ব্যথা, পায়ে ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, পিঠে ব্যথা, মাথা ব্যথা ইত্যাদি। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত আপনারা যদি নিয়মিত বেল খান, সেক্ষেত্রে আপনারা আর্থ্রাইটিস বা বিভিন্ন ধরনের ব্যথার হাত থেকে মুক্তি পাবেন। কেননা বেলে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান বিদ্যমান রয়েছে।
- যক্ষা নিরাময় করেঃ সাধারণত বেলে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-মাইক্রোবায়াল উপাদান বিদ্যমান রয়েছে, যা যক্ষা নিরাময় করতে দারুণ সহায়ক। মধু এবং বেলের শরবত খেলে যক্ষা থেকে মুক্তি মিলবে।
- স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করেঃ সাধারণত স্কার্ভি রোগ হলে দ্রুত দাঁতের ক্ষয় হয়। আর এই রোগটি মূলত ভিটামিন সি এর অভাবে হয়ে থাকে। বেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি বিদ্যমান রয়েছে, যা স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।
- ডায়রিয়া নিরাময় করেঃ কাঁচা বেল খেলে ডায়রিয়া সমস্যা দূর হবে। কাঁচা বেল খাওয়ার জন্য প্রথমে কাঁচা বেল স্লাইস করে কেটে, তারপর রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। এরপর ভালোভাবে যখন কাঁচা বেল শুকানো হয়ে যাবে, তখন ব্রাউন সুগার, গরম পানি মিশিয়ে খাবেন, এভাবে কয়েকদিন খেলেই ডায়রিয়ার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
- ম্যালেরিয়া নিরাময় হবেঃ আপনারা যারা ম্যালেরিয়ার সমস্যায় ভুগছেন, কাঁচা বেল স্লাইস করে কেটে রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে দুই চামচ কাঁচা বেলের গুঁড়া, দুই চামচ মধু তিন চামচ তুলসী পাতার রস ভালোভাবে মিশিয়ে দিনে দুইবার খাবেন, নিয়মিত কয়েকদিন খেলেই ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময় হবে।
- ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ সাধারণত বেলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন উপকারী উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। তাই আপনারা যারা ব্লাড প্রেসার জনিত সমস্যায় ভুগছেন আপনারা নিয়মিত বেলের শরবত খেতে পারেন, এতে করে ব্লাড প্রেসার খুব সহজে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
- বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি হ্রাস করেঃ সাধারণত প্রস্টোজেন হরমোন বৃদ্ধিতে বেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা বন্ধ্যাতের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে।
বেল খাওয়ার অপকারিতা
অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। কোন জিনিস আপনি যখন পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত খাবেন,
তখন আপনার স্বাস্থ্যের উপকারিতার বদলে অপকারিতা হবে। বেল মূলত স্বাস্থ্যের জন্য
নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। বেল খুবই সুমিষ্ট একটি ফল, যা প্রায়
প্রত্যেক মানুষেরই পছন্দের একটি খাবার। আপনারা যদি বেল পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত
খান, সেক্ষেত্রে আপনাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দেবে, গ্যাস্টিকের সমস্যা দেখা
দিবে, বদহজমের সমস্যা দেখা দেবে,
পেটে ব্যথার সমস্যা দেখা দেবে, হজমে সমস্যা দেখা দেবে, যৌন শক্তি হ্রাস
পাবে,পাতলা পায়খানা হতে পারে, পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে,
এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই জন্য প্রিয় পাঠক আপনারা
যদি বেলের সম্পূর্ণ উপকারিতা শরীরের পেতে চান, সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে বেল
খাওয়ার অভ্যাস করে তুলুন, অতিরিক্ত বেল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং সঠিক নিয়মে
বেল খান।
বেলের পুষ্টিগুণ উপাদান
বেল এর বৈজ্ঞানিক নাম Aegle marmelos Correa, বেল মূলত (Rutaceae) রুটাসি অর্থাৎ
লেবু পরিবারের সদস্য, আর বেলের সংস্কৃত নাম হচ্ছে বিল্ব। সাধারণত ভারতবর্ষে বেলের
জন্ম। আর এই বেল গাছের উচ্চতা প্রায় ১০-১৬ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত বেল
খুবই পুষ্টিগুনে ভরপুর এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। কাঁচা ও
পাকা দুই অবস্থাতেই সমানভাবে বেল অত্যন্ত উপকারী।
আরো পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সিং শেখার সহজ ও কার্যকরী ৩৮টি উপায় ও নতুনদের জন্য
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোন কাজ সহজ হবে?
মূলত আরো অন্যান্য ফলের চাইতে বেলের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। বেলে প্রচুর পরিমাণে
পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান রয়েছে যেমন ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন সি,
ভিটামিন এ, শর্করা, প্রোটিন, খাদ্যশক্তি, স্নেহ পদার্থ, ফ্যাট, পানি, থায়ামিন,
ক্যারোটিন, নিয়াসিন, রিবোফ্লাবীন, টারটারিক অ্যাসিড, এসকরবিক এসিড ইত্যাদি।
এছাড়াও প্রতি ১০০ গ্রাম বেলের শাঁসে শর্করা ২৮.১১- ৩১.৮ গ্রাম,
প্রোটিন ১.৮-২.৬২ গ্রাম, স্নেহ পদার্থ ০.২-০.৩৯ গ্রাম, ফ্যাট ০.৩ গ্রাম, ভিটামিন
এ ৫৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৬০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম
৬০০ মিলিগ্রাম, খাদ্য শক্তি ১৪০ ক্যালোরি, পানি ৫৪.৯৬-৬১.৫ গ্রাম, থায়ামিন ০.১৩
মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৫৫ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাবীন ১.১৯
মিলিগ্রাম, টারটারিক অ্যাসিড ২.১১ মিলিগ্রাম, এসকরবিক অ্যাসিড ৮-৬০ মিলিগ্রাম
ইত্যাদি।
বেল খাওয়ার সঠিক সময় - বেল কখন খাওয়া উচিত?
সাধারণত বেল খুবই পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত
উপকারী। তাই জন্য বেল খাওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে সকলেরই জানা উচিত। সঠিক সময়ে
বেল খেলে শরীরে মিলবে নানা ধরনের সকল উপকারিতা। মূলত দুপুরে খাবার খাওয়ার পর
থেকে রাতে খাবার খাওয়ার আগ পর্যন্ত এই সময়টা হচ্ছে বেল খাওয়ার জন্য আদর্শ
সময়।
সাধারণত সকালবেলা প্রায় কমবেশি সকল মানুষই পরিশ্রম করেন, পরিশ্রম করার পর শরীর
ক্লান্ত হয়ে যায়, এই ক্লান্তি ভাব দূর করার জন্য, আপনারা যদি একগ্লাস বেলের
শরবত খান, তাহলে খুবই দ্রুত এনার্জি ফিরে আসবে। আপনারা যখন ক্লান্তি ভাব অনুভব
করবেন তখন বেলের শরবত খেতে পারেন, এতে করে আপনার শরীরে এনার্জি সঞ্জয় হবে
পাশাপাশি শরীর থাকবে শীতল।
পাকা বেল খাওয়ার উপকারিতা
পাকা বেল যেহেতু খুবই পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার, সেহেতু প্রত্যেক মানুষেরই
পাকা বেল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী। কেননা পাকা বেল সঠিক
নিয়মে খাওয়ার ফলে যে সকল উপকারিতা গুলো শরীরে পাওয়া যায় সেগুলো মূলত
স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
সাধারণত গ্রীষ্মকালে গরমের সময় এক গ্লাস পাকা বেলের শরবত শরীরকে সতেজ করে তোলে
পাশাপাশি শরীরে এনার্জির যোগান দেয়। গ্রীষ্মকালে পাকা বেলের এক গ্লাস শরবত যেন
প্রাণকে জুড়িয়ে দেয়। প্রিয় পাঠক তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক পাকা বেল খাওয়ার
উপকারিতা সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হলো।
- কিডনি সুস্থ রাখে।
- যক্ষা নিরাময় করে।
- ডায়রিয়া নিরাময় করে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
- ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
- ম্যালেরিয়া নিরাময় করে
- বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি হ্রাস করে।
- স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে।
- ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করে।
- চোখের দৃষ্টি শক্তি উন্নত করে।
- জন্ডিস কমাতে সহায়তা করে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
- বীর্যের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
- ডায়াবেটিসের সমস্যার সমাধান করে।
- শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
- আর্থ্রাইটিস সমস্যা কমাতে সহায়তা করে।
- ত্বকের নানা ধরনের সমস্যার সমাধান করে।
- গ্যাস্ট্রিক ও আলসার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।
কাঁচা বেলের কি কি উপকারিতা রয়েছে?
সাধারণত কাঁচা বেল এবং পাকা বেল উভয়টি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল।
প্রিয় পাঠক ইতিমধ্যে আপনাদের সাথে পাকা বেলের উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিতভাবে
আলোচনা করেছি। মূলত আধা পাকা বেল আমাশয় দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এছাড়াও
আপনারা যদি কাঁচা বেল সিদ্ধ করে শরবত বানিয়ে খান, সেক্ষেত্রে আপনাদের হজম শক্তি
আরও উন্নত হবে।
এছাড়াও পেটের নানা ধরনের সমস্যা যেমন পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা,
ডায়রিয়া, আমাশয় ইত্যাদি সমস্যা গুলো দূর হবে। এছাড়াও যাদের চোখে ছানি পড়ার
সমস্যা রয়েছে, তারা যদি বেলপাতা ভালোভাবে ধুয়ে রস করে দুই চামচ বেল পাতার রস
এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে চোখে ছানি পড়ার সমস্যা এবং চোখের জ্বালাপোড়া উপশম
হবে।
এছাড়াও আপনারা যদি ২ চামচ বেল পাতার রস এক চামচ মধু এবং সাথে এক চিমটি গোলমরিচের
গুঁড়ো ভালোভাবে মিশিয়ে পান করেন, সেক্ষেত্রে জন্ডিস রোগ নিরাময় হবে। এছাড়াও
নিয়মিত কাঁচা বেলের শরবত পান করলে স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ হবে। বৈজ্ঞানিকভাবে
প্রমাণিত যে বেল পেট পরিষ্কার রাখতে দারুন কাজ করে। যাদের পেটের নানা ধরনের
সমস্যা রয়েছে তারা যদি নিয়মিত টানা ২-৩ মাস বেলের শরবত খাই, সেক্ষেত্রে আপনাদের
কোষ্ঠকাঠিন্য সহ পেটের নানা ধরনের সমস্যা দূরীভূত হবে।
এছাড়াও যাদের আলসার রয়েছে তারা যদি নিয়মিত বেল খাই, সেক্ষেত্রে অনেক উপকার
পাবেন। কেননা বেলে প্রচুর পরিমাণে আঁশ এবং ফাইবার বিদ্যমান রয়েছে, যা আলসার
প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী সলিউশন। যারা আলসারের সমস্যায় ভুগছেন আপনারা সপ্তাহে
তিন দিন বেলের শরবত খেতে পারেন।
এছাড়াও সারারাত বেলের পাতা ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকাল বেলা বেলের পাতা ভেজা
পানি খেলে আলসার প্রতিরোধ হবে। পাকা বেলে প্রচুর পরিমাণে ম্যাথলন উপাদান বিদ্যমান
রয়েছে, যা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে, এতে করে ডায়াবেটিস কমে। মানুষ পরিশ্রম
করার পর ক্লান্তি অনুভব করে এই সময় আপনাদের এনার্জি ফিরে পাওয়ার জন্য এক গ্লাস
বেলের শরবত খেতে পারেন।
প্রতি ১০০ গ্রাম বেলে রয়েছে ১৪০ ক্যালোরি এনার্জি। সাধারণত বেলে প্রচুর পরিমাণে
মেটাবলিক স্পিড পাওয়া যায়। এছাড়াও বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত বেল
খাওয়ার ফলে যেমন ব্লাড প্রেসার কমায়, ঠিক তেমনি ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে
রাখতে অনেক কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।
এজন্য প্রিয় পাঠক আপনারা পাকা বেল হোক কিংবা কাঁচা বেল, আপনারা শরবত হিসেবেও
খেতে পারেন, আবার এমনিও খেতে পারেন। এছাড়াও বেলে প্রচুর পরিমাণে
আন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে। প্রিয় পাঠক উপরে কাঁচা বেলের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা
করেছি। আশা করি আপনারা কাঁচা বেলার উপকারিতা সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পেরেছেন।
খালি পেটে বেল খাওয়ার উপকারিতা কী কী?
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের প্রথম পছন্দের খাবার হচ্ছে সকালবেলা খালি পেটে বেলের
শরবত। প্রিয় পাঠক আপনারা যদি প্রতিদিন নিয়মিত খালি পেটে এক গ্লাস করে বেলের
শরবত খান, সেক্ষেত্রে আপনাদের শরীরে নানা ধরনের উপকারিতা মিলবে। কেননা বেল হচ্ছে
খুবই পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। খালি
পেটে বেল খাওয়ার ফলে শারীরিক ও দৈহিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে পাশাপাশি গ্যাস্টিকের
সমস্যা সহ পেটের নানা ধরনের সমস্যা দূরীভূত হবে।
এছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য, যক্ষা, পেট খারাপ, জন্ডিস, আমাশয়, ম্যালেরিয়া,
ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যা দূর হবে পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে
সহায়তা করবে। এছাড়াও বেলে নানান ধরনের ঔষধি গুনাগুন বিদ্যমান রয়েছে, যা দেহের
জন্য অনেক উপকারী। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী ফল হিসাবে বেল
পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছে।
বেল বিভিন্ন উপকারী গুনাগুনের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালে গরমে এক গ্লাস বেলের শরবত
নিমিষেই শরীরে প্রশান্তি এনে দেয় পাশাপাশি এনার্জি ফিরিয়ে আনে। আপনারা যদি
প্রতিদিন নিয়মিত খালি পেটে বেলের শরবত খান, তাহলে ল্যাকোটিভগুণ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর
করবে, ত্বক ভালো রাখবে পাশাপাশি ত্বকের ব্রণ, দাগ, ছোপ দূর করবে। প্রিয় পাঠক
আপনারা যদি টানা ২-৩ মাস বেলের শরবত খেতে পারেন, তাহলে আপনারা নিজেরাই উপকার
বুঝতে পারবেন।
সাধারণত পাকা বেলে মেথানল নামক একটি উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা ব্লাড সুগার
নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অবশ্যই আপনাদের বেল এমনি খেতে
হবে। বেলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ক্যালোরি বিদ্যমান রয়েছে। পুষ্টিবিদরা বলেন
বেল হজম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দারুন কাজ করে পাশাপাশি এনার্জি বাড়াতেও সহায়ক। প্রতি
১০০ গ্রাম বেলে ১৪০ ক্যালোরি এনার্জি বিদ্যমান থাকে, যা পাচন ক্রিয়াকে শক্তিশালী
করতে সহায়তা করে।
প্রিয় পাঠক আপনারা কি আপনাদের ব্লাড প্রেসার নিয়ে চিন্তিত? তাহলে আর চিন্তা
নাই। আপনারা যদি এই সময় বেল খান, সেক্ষেত্রে আপনারা এই সমস্যার সমাধান করতে
পারবেন। পুষ্টিবিদরা বলেন ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে বেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে। সাধারণত বেলের প্রচুর পরিমাণে এন্টি-প্রলেফিরেটিভ ও
অ্যান্টি-মুটাজেন উপাদান বিদ্যমান রয়েছে, আপনারা যদি নিয়মিত বেল খান,
সেক্ষেত্রে ক্যান্সার প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি পাবে। নিয়মিত বেল খাওয়ার ফলে যেমন
শরীরে ইমিউনিটি বুষ্ট হবে, ঠিক তেমনি শরীর থাকবে শীতল। এজন্য প্রিয় পাঠক আপনারা
সকাল বেলা খালি পেটে নিয়মিত বেল খেতে পারেন,অনেক উপকার পাবেন।
লেখকের ইতি কথাঃ বেল খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও অপকারিতা ৮টি
সম্মানিত পাঠক আশা করি উপরোক্ত আলোচনা থেকে বেল খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও অপকারিতা
৮টি সেই সম্পর্কে পুরোপুরি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো
ভালোভাবে পড়ে নিলে বেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ, বেল কেন
খাওয়া উচিত? বেলে কি কি ভিটামিন আছে? সে সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারবেন। বেল
শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পতঙ্গ কে বিশেষভাবে দেখভাল করে সুস্থ ও ফিট রাখার মহা ঔষধ বা
প্রধান খাবার এবং চালিকা শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
নিয়মিত সাধ্যমত বেল খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কিন্তু অনেকেই বেলের ভিতরে থাকা বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও প্রোটিন এই গুনাগুন গুলো
সম্পর্কে জানেনা। তাই অনেকেই বেল তেমন খায় না। এজন্য তারা বিভিন্ন ধরনের রোগে
আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই আপনি যদি সব ধরনের রোগ-বালা থেকে মুক্ত থাকতে চান এবং
আপনার শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে চান তাহলে অবশ্যই বেল খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও
অপকারিতা ৮টি এই আর্টিকেলটি পড়া আবশ্যক।
প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ আমাদের সাথে থেকে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগের সাথে
পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে এই ধরনের তথ্যবহুল
আর্টিকেল নিয়মিত পোস্ট করে থাকি। তাই আপনি যদি এ ধরনের আরও তথ্যবহুল উপকারী
পোষ্ট করতে চান, তাহলে এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ফলো করুন। সাথে সাথে এই আর্টিকেলটি
পড়ে ভালো লাগলে আপনার নিকট আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজনদের কাছে তাদের
উপকারার্থে শেয়ার করে দিন।
যেন তারা বেল খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও অপকারিতা ৮টি এ বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি
ভালোভাবে জেনে নিতে পারে। বেল খাওয়ার উপকারিতা ২০টি ও অপকারিতা ৮টি এ বিষয়টি
নিয়ে আপনার যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ মতামত বা প্রশ্ন থাকে, তাহলে অবশ্যই নিচে
দেওয়া মতামত বক্সে কমেন্ট করতে ভুলবেন না। আবার আপনাদের সাথে কথা হবে নতুন কোন
আর্টিকেল নিয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ ও সুস্থ থাকুন।
কনফিডেন্স আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url